Better Quality Better Service for Better Life, Call: 01758-930774

Menu
Achievement Details

দ্বিতীয় আন্দোলনের ডাকঃ সময়কালঃ ১০ই অক্টোবর-২০১৯

সময়কাল সেপ্টেম্বর ২০১৮।

হ্যালো, সাঈদ তুমি কোথায়? কাকা, আমি বরিশাল।

 

প্রথম আন্দোলনের ডাক রিপন কাকার  আমন্ত্রণে  শ্যামলী তে “গণতান্রিক  কার্যালয়” 

প্রথম মানববন্ধনের মিটিং সিদ্ধান্ত ও আগাম তারিখ নির্ধারণ:

ভাতিজা, ২১ তাং প্রেস ক্লাবের মানববন্ধন উপলক্ষ্যে অনেক কাজ আছে, তুমি ঢাকা এসেই আমার সাথে দেখা করো এবং রমনায় মানববন্ধনের করনীয় নিয়ে ১৮ তাং মিটিংয়ে তুমি অবশ্যই উপস্থিত থাকবা।

আমি ঢাকা এসে রমনার মিটিংয়ে যোগদান করতে না পারলেও, তার সাথে নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ রেখেছি।

কাকা, বললেন ব্যানার ফেস্টুন বানানোর জন্য কিছু স্লোগান প্রয়োজন, তুমি কি এ ব্যাপারে সহযোগীতা করতে পারবে? ।

জ্বী কাকা আমি করতেছি। রাত জেগে বিভিন্ন এ্যাঙ্গেলে
অর্ধশত স্লোগান সাজিয়ে ৩০ টির মতো সিলেক্ট করেছিলাম সিনিয়রদের সাথে আলোচনা করে।

এর পরে আসলো জনগনের উপস্থিতি করানোর বিষয়। রিপন কাকা বললেন, সোস্যাল মিডিয়ায় রেগুলার আবেগঘন পোষ্ট দিতে থাকো, যাতে প্রচার বাড়ে এবং অধিক সংখ্যক ব্যক্তিবর্গ প্রগ্রামে অংশগ্রহন করে। চলমান রাখলাম সেই কার্যক্রম। এক পর্যায়ে পুরোপুরিভাবে সফল হয়েছিল আমাদের ঢাকার প্রগ্রাম।

পরবর্তীতে, আমরা নিয়মিত আর্টিকেল সাজাতে থাকলাম সাংবাদিক ভাইদের সহযোগীতা নিয়ে জাতীয় পত্রিকায় নিউজ করার জন্য। আমাদের সমস্যাটি যাতে এমপি, মন্ত্রী সহ সিনিয়র লিডারদের নজরে আসে। সৌভাগ্যক্রমে, উপজেলার সকল সাংবাদিক ভাইয়েরা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। সকল সাংবাদিক ভাইদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন রিপন কাকা। শুধু তাই না ধুলিয়া ও ধুলিয়ার বাহিরে তরুণ-যুবক সহ ছোট বড় পরিচিত সবার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন।

 

আবার দ্বিতীয় আন্দোলনের ডাক  রিপন কাকার  আমন্ত্রণে রমনা বটমূলে দ্বিতীয় মানববন্ধনের মিটিং ও আগাম তারিখ নির্ধারণ:

এরপরে, এক বছরের মাথায় সকলের সহযোগীতা নিয়ে আমরা তেঁতুলিয়া পাড়ে সহস্রাধিক জনগনের উপস্থিতিতে আরেকটি দ্বিতীয় মানববন্ধন করলাম।

এতক্ষণে, আমাদের সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কার্যক্রম শুরু করেন। কিন্তু, কোন বাজেট না আসার জন্য আমরা হতাশ হয়ে যাই। আমি ব্যক্তিগতভাবে হাল ছেড়ে দেই। কি হবে লিখে, কি হবে এত সময় ব্যয় করে। বাজেট বোধহয় আমাদের কপালে নেই।

কিন্তু, রিপন কাকা আমাকে বললেন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। জনগনের ন্যায্য দাবি কখনও বিফলে যেতে পারে না।শুরু করলাম, নতুন সংগ্রাম। করোনা পরিস্থিতিতে কিভাবে আন্দোলন অব্যাহত রাখা যায় সে বিষয়ে সকলের মতামত নিতে দিন রাত কার্যক্রম চলছে। সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে বানানো হলো গ্রুপ। ভাঙণের চিত্র, জাতীয়/ স্থানীয় প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সকল আপডেট, গ্রামে বাজেট দিয়েও সরকার কিভাবে রাজস্ব পেতে পারেন এবং ভুক্তভোগী জনগনের কথার সমন্বয়ে চলতে থাকলো গ্রুপের কার্যক্রম। এই মাসেই একাধিক কর্মসূচীর পরিকল্পনা ছিলো। তার মধ্যে স্থানীয় সাংসদ সাবেক চীফ হুইপ মহোদয়, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মহোদয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের চীফ ইঞ্জিনিয়ার মহোদয়ের নিকট স্মারকপত্র প্রদান। উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহ সর্বস্তরের জনগন কর্তৃক কাফনের কাপড়ে সাক্ষর গ্রহন, রাস্তায় শুয়ে মানববন্ধন, ঢাকা-চট্রগ্রাম-বরিশাল প্রেস ক্লাবে একযোগো মানববন্ধন, প্রফাইল পিকচারে নির্দিষ্ট লোগো লাগানো, একযোগে ফেজবুক পোষ্ট ইত্যাদি।

কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায়ই আল্লাহর অশেষ কৃপায় আমরা ১৮ আগষ্ট ৭১২.২১ কোটি টাকার বাজেট পেয়ে যাই। আমাদের বিজয় অর্জিত হয়।

দীর্ঘ এই পথযাত্রায় থেমে ছিলাম না, একটি দিনের জন্যও। এমন কোন মুহুর্ত হয়তো ছিলোনা নদী ভাঙনের বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়নি। এরকম থেমে না থাকা ধূলিয়ার প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রেই ছিলো এবং প্রতিটি ব্যক্তির কার্যক্রমই বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা সম্ভব। হয়তো প্রতিটি গল্পই থাকবে যুদ্ধে মাঠে থাকার কাব্যের সমন্বয়। একসময় সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাতেই আজ আমরা সফল হয়েছি। কারও অবদানকেই বিন্দুমাত্র হেয় চোখে দেখার সুযোগ নেই।

আমি এক সময় জানতে পারি রিপন কাকা শুধু আমার সাথেই যোগাযোগ রেখেছেন এমনটি নয়, ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি যুবকদের সাথে যোগাযোগ রেখেছিলেন। রেখেছিলেন সিনিয়রদের সাথেও। তার বাড়িটি ভাঙনের মুখে ছিলো সেজন্য তিনি করেছেন বিষয়টি সেরকম নয়, মাটির প্রতি ভালবাসা থেকেই তিনি সরব ছিলেন। আমরা সবাই সকল কাজ শেষে নদী ভাঙন নিয়ে কাজ করতাম, বিপরীতে রিপন কাকা নদী ভাঙন নিয়ে কাজ করার পরে অন্যান্য কাজে হাত দিতেন। এটাই বাস্তব চিরসত্য। সকলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য তার অবদান আমি কৃতজ্ঞভরে স্মরন করতেছি।

কিন্তু, আজ দেখলাম ধূলিয়া বাঁধ রক্ষা গ্রুপে অনেকটা অভিমান নিয়ে রিপন কাকা পদত্যাগ করেছেন। বিষয়টি আমাকে মর্মাহত করেছে। আমাদের মাঝে ভুল বোঝাবোঝি থাকতে পারে, কিন্তু সেটা অভিমান পর্যায়ে কেন যাবে? আমরা পুরো ইউনিয়ন একটি পরিবার। সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে আরো অনেক কিছুই আমাদের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব হবে।

আমার এই লেখা শেষ হবার আগে অনেক ইভেন্ট হয়তো সমাপ্ত হয়েছে। আমি পূর্ব ইভেন্টের টপিক নিয়েই লেখা সমাপ্ত করলাম। লেখাটি ব্যক্তিগতভাবে কারও ছোট বড় তোষামোদ করার জন্য লিখিনি। শুধুমাত্র একটি প্রেক্ষাপট তুলে ধরলাম।

সংযুক্ত ছবিটি বাজেট পাশ পরবর্তী সময়ে তার বাসায় সুদূর চট্রগ্রাম থেকে এসে বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করার মুহুর্তে তোলা।

 

-------Ahmed Sayed

Face book Published:  August 26, 2020

“ধুলিয়া-তেঁতুলিয়া নদীভাঙন রোধ আন্দোলনের পথিকৃত সৈয়দ নিজামুল হক (সৈয়দ রিপন)।”